পশ্চিমবঙ্গে চলছে ভোটগ্রহণ, দুর্গ রক্ষায় মরিয়া তৃণমূল
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৩-০৪-২০২৬ ১০:২০:০৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
২৩-০৪-২০২৬ ১১:৫৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলছে। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয় নির্বাচনী প্রচারণার সময়সীমা। এ দফায় রাজ্যটির উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মোট ১৬ জেলার ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। কোনো রকম বিরতি ছাড়াই ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রথম দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৮৪ লাখ, নারী ভোটার ১ কোটি ৭৫ লাখের মতো এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪৬৫ জন।
ভোটের ময়দানে এবার কড়াকড়ি কমিশনের। ভোটার তালিকায় প্রায় ১২ শতাংশ কাটছাঁটের পর শুরু হওয়া এই নির্বাচনে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে রেকর্ড সংখ্যক ২ হাজার ৪৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী।
প্রায় আড়াই লাখ সদস্যের কড়া নজরদারিতে বুথমুখী হয়েছেন ভোটাররা। সীমান্ত সংলগ্ন জেলা এবং চা-বাগান এলাকাগুলোতে বিশেষ টহলদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিজেপির কাছে প্রথম দফার এই ভোট মূলত উত্তরবঙ্গ দখলের অগ্নিপরীক্ষা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৫৯টিতে জয়লাভ করেছিল। এবার সেই পরিসংখ্যানকে টপকে রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পথ প্রশস্ত করতে আগ্রাসী প্রচারে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বিশেষ করে নারী ও যুব সমাজকে বিপুল সংখ্যায় ভোটদানের মাধ্যমে 'গণতন্ত্রের উৎসবে' সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। গত নির্বাচনে এই ১৫২টি আসনের মধ্যে ৯৩টিতে জয়ী হয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল শাসকদল।
ভোটের আগের দিন আমডাঙার সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে সরানো যাবে না। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, 'মা-মাটি-মানুষ'-এর অধিকার রক্ষা ও ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দিতেই বাংলার মানুষ জোড়াফুলে আস্থা রাখবেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, অন্তত ৮০টি আসনে এবার সরাসরি ও অত্যন্ত কঠিন টক্কর হতে চলেছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা এবং উত্তরবঙ্গের চা-শ্রমিকদের ভোট কোন মেরুতে যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে ফলাফলের গতিপ্রকৃতি।
পাশাপাশি বেশ কিছু আসনে বহুমুখী লড়াইয়ের সমীকরণ তৈরি হওয়ায় ২০২৬-এর এই নির্বাচন গতবারের তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও কৌতূহলপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আজকের এই প্রথম দফার ভোট শেষে আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন, যেখানে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার ১৪২টি আসনের ভোটগ্রহণ করা হবে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স